ঢাকাবুধবার , ২২ জুন ২০২২
  1. #টপ৯
  2. #লিড
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. ইচ্ছেডানা
  8. উদ্যোক্তা
  9. ক‌রোনা মহামা‌রি
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. চাকুরীর খবর
  15. জাতীয়

বিশ্ব রেকর্ড গড়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় পদ্মা সেতু।

দেশইনফো২৪.কম
জুন ২২, ২০২২ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ব রেকর্ড গড়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় কোটি বাঙালির স্বপ্ন সংযোগ পদ্মা সেতু। আর মাত্র চার দিন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের।

প্রমত্তা পদ্মা বিশ্বে খরস্রোতা নদী আমাজানের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তার ওপর সেতু নির্মাণ ছিল অকল্পণীয়। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে জাতির। সেই স্বপ্ন পূরণের রূপকল্পকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অর্থায়নে তৈরি হওয়া এই সেতু এখন বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতার মূর্ত প্রতীক।

দ্বিতল পদ্মা সেতু তৈরিতে পেরোতে হয়েছে অনেক বাঁধা-বিপত্তি ও চ্যালেঞ্জ। তবে এতো কিছুর মধ্যেও সেই পদ্মার বুকেই আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে স্বপ্নের সেতু। ছুঁয়েছে কয়েকটি মাইলফলক। চল্লিশ তলার সমান পাইলিং, দশ হাজার টনের বেশি ধারণ ক্ষমতার বেয়ারিং আর নদী শাসনে এ মেগা স্ট্রাকচার গড়েছে বিশ্ব রেকর্ড। আর এ কারণেই পৃথিবীর অন্য সেতুর তুলনায় বৈশিষ্ট্য অন্যন্য করেছে পদ্মা সেতুকে। আমাদের আজকের আয়োজন পদ্মা সেতুর বিশ্ব রেকর্ড। চলুন জেনে নেয়া যাক পদ্মা সেতুর যত রেকর্ড:

১) চল্লিশ তলার সমান পাইলের গভীরতা: পদ্মা সেতু শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় পুরো বিশ্বের জন্যই একপ্রকার রোল মডেল। প্রবল স্রোতের এই পদ্মায় সেতুটি তৈরি করতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। সবকিছুতেই আধুনিক মানের সব ব্যবহার হয়েছে। খরস্রোতা পদ্মার মাটির ১২০-১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর পাইল। যা চল্লিশ তলার সমান। এর আগে পৃথিবীর অন্য কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে গিয়ে পাইল বসাতে হয়নি। যা একটি রেকর্ড।

মূল সেতুতে পাইল রয়েছে ২৬৪টি। নদীর ভেতরে ও দুই প্রান্তে সেতুর ৪০টি পিলারের নিচে পাইপের মতো দেখতে পাইলগুলো বসানো হয়েছে। নদীর পাইলগুলো ভেতরে ফাঁকা, ইস্পাতের তৈরি। প্রতিটি পাইলের ব্যাসার্ধ তিন মিটার। পুরুত্ব ৬২ মিলিমিটার। একেকটি পিলারের নিচে ছয় থেকে সাতটি পাইল বসানো হয়েছে। এই পাইল নদীর তলদেশের মাটি থেকে সর্বোচ্চ ১২৫ দশমিক ৪৬ মিটার (প্রায় ৪১২ ফুট) গভীরে বসানো হয়েছে।

২) বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেন্ডুলাম বিয়ারিং ব্যবহার: পিলার এবং স্প্যানের মধ্যে যে পেন্ডুলাম বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে তার ওজন ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। পৃথিবীতে এর আগে কোনো সেতুতে এমন বড় বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি। ফলে এই ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং পদ্মা সেতুকে অন্য সেতুর তুলনায় অসাধারণ করে তুলেছে। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

ভূমিকম্প, মাটির ক্ষয়সহ যে কোনো আঘাত প্রতিরোধ করে ঠিকে থাকবে পদ্মা সেতু। সব ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে দীর্ঘদিন টিকে থাকার শক্তি রয়েছে পদ্মা সেতুর। আর সেই সক্ষমতা গড়ে তোলার উপযোগী করেই নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর অবকাঠামো।

৩) সবচেয়ে বড় ক্রেন ব্যবহার: পরের রেকর্ডটি ব্রিজে ব্যবহৃত ক্রেন। পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি আনা হয়েছে চীন থেকে। ‘তিয়ান ই’ নামের ক্রেনটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসে ‘তিয়ান ই’। এই ক্রেন দিয়ে ৩ বছর ৯ মাসে ৪১টি স্প্যান বসানো হয়েছিল পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারের ওপর।

এই ক্রেনের প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুণতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। সাড়ে তিন বছরে মোট খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে প্রথম এই ব্রিজটি বানাতেই এতো দীর্ঘ দিন ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে। এই ক্রেনটির বাজার দর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

৪) নদী শাসনে বিশ্ব রেকর্ড: তৃতীয় রেকর্ড নদী শাসন। পদ্মা সেতুতে দুই দিকে ১৪ কিলোমিটার নদী শাসনের যে কাজটি আছে, সেটি বিশ্বে সর্বোচ্চ। ১৪ কিলোমিটার (১.৬ মাওয়া ১২.৪ জাজিরা) এলাকা নদী শাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এই নদী শাসনে খরচ হয়েছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।

পদ্মা সেতু প্রকল্প তিন জেলায় বিস্তৃত। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মাদারীপুরের শিবচর। ভাঙনসহ নানা কারণে পদ্মা সেতু যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্যই নদী-শাসন করা হচ্ছে।

৫) কংক্রিট ও স্টিলের সেতু: আরেকটি রেকর্ড পদ্মা সেতুই বিশ্বে প্রথম যেটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হয়েছে। বিশ্বে আর কোনো সেতু নির্মাণে কংক্রিট এবং স্টিল একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ সেতুগুলো হয় কংক্রিটে নির্মিত, না হয় স্টিলের।

পদ্মা নদীর গতিপ্রকৃতি ও বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এখানে যেকোনো সেতু নির্মাণ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।

সেই পদ্মার বুকেই আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে স্বপ্নের সেতু। দেশি বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে মাথা তুলে পূর্ণ রূপ পেয়েছে পদ্মা সেতু৷ পদ্মার প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে প্রায় সব কাজ শেষে আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখন নদীর উভয় তীরে দাঁড়ালেই দেখা যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বিশ্বকে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশের সক্ষমতা।

গাড়িতে চড়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার দারুন আগ্রহেে বিভোর গোটা জাতি। অপেক্ষা মাত্র চার দিনের। সেতুটি একশো বছরের স্থায়িত্ব ধরে বানানো হয়। হয়তো এরপরে আরো অনেক সেতুই নির্মিত হবে দেশে কিন্তু পদ্মা সেতুর যে বিজয় গাথা তা বাংলাদেশের ইতিহাসে লিখা থাকবে অন্যন্য উচ্চতায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।