ঢাকাবুধবার , ১৫ নভেম্বর ২০২৩
  1. #টপ৯
  2. #লিড
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. ইচ্ছেডানা
  8. উদ্যোক্তা
  9. ক‌রোনা মহামা‌রি
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. চাকুরীর খবর
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিডরের ১৬ বছরেও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ

অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ১৫, ২০২৩ ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

১৬ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে দেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে ভয়াবহ প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর। ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের সঙ্গে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার পানি আঘাত হেনেছিল দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়। মাত্র আধা ঘণ্টার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলের প্রান্তিক জনপদ।

তীব্র ঝড় আর জলোচ্ছাসে কেড়ে নেয় উপকূলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির বাড়ি-ঘর, গাছপালা, গৃহপালিত হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগলসহ শত শত মানুষের তাজা প্রাণ। ওই দিনের ভয়াবহতা মনে পড়লে এখনো আঁতকে ওঠেন উপকূলবাসী।

১৫ নভেম্বর রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার নিজামপুর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহূর্তে পরিণত হয় অচেনা এক ধ্বংসস্তুপে। ১৬ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মহিপুর ইউনিয়নটি এখন মহিপুর থানা হয়েছে। এ জনপদের নেতারা এমপি হয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর। ভাঙ্গাবেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন বহুবার।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি, দেশী-বিদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতবার পরিদর্শন করেছেন তার হিসাব দিতে পারছেন না বসবাসকারীরা। কিন্তু সেই ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের টিকসই উন্নয়ন হয়নি এখনও। বছরের পর বছর জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে। যা বর্ষা মৌসুমে ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। শত শত একর ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে।

প্রকৃত কৃষকরা চাষের জমি হারিয়ে এখন জেলে পেশায় নিয়োজিত। জোয়ার-ভাটার সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে অন্যত্র চলে গেছে বেশ কিছু পরিবার। সরেজমিনে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথাও বলতে চায় না তারা। মিডিয়া কর্মীদের বক্তব্য দিতে দিতে ক্লান্ত তারা।

তাদের ভাষ্য ‘সাংবাদিক আয় ছবি তোলে, ভিডিও করে। মোগো ভাগ্যের তো পরিবর্তন হয় না।’ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে তারা কোন লাভ দেখছেন না। প্রলয়ংকারী সিডরের ১৬ বছর পার হলেও সেই রাতের ভয়াল দৃশ্য আজও তাড়িয়ে বেড়ায় নিজামপুরবাসীকে।

সরেজমিনে মিজামপুরের মো.ইসাহাক, ইলিয়াস, শহিদ হাওলাদারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই রাতে ঘরবাড়ি, গাছপালা, ক্ষেতের ফসল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, বাঁধ সবকিছুই লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

সিডরের ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও আন্ধারমানিক নদীর মোহনার তীরবর্তী এলাকায় বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ পরিপূর্ণভাবে নির্মাণ না হওয়ায় এখনো দুর্যোগ ঝুঁকিতে দিন পার করছে শত শত পরিবার। হতদরিদ্র পরিবারগুলো সিডরের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখনো।

ধুলাসার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাচন হাওলাদার সেদিনের কথা মনে করে বলেন, ‘প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছাসের কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে উঠি। আমাদের দাবি ছিল এই এলাকায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের।

ধুলাসার ইউনিয়নের ধুলসার গ্রামের অরক্ষিত বেড়িবাঁধে কথা হয় মরিয়ম বেগম (৬৩) এর সাথে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সাথে কথা বলে কি হবে? বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দিতে পারবেন? বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ বালুর বস্তা দিয়েই বার বার ঠিক করা হচ্ছে। বন্যার সংবাদ পেলেই আতংকে থাকি। আমরা স্থায়ী টিকসই বেড়িবাঁধ চাই।’

এদিকে কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার, মহিপুর, চম্পাপুর ও লালুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ অরক্ষিত থাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করা পরিবারগুলো রয়েছে এখনো ঝুঁকিতে।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালের সিডরে কলাপাড়া উপজেলায় ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজার ৭৮ জন। নিখোঁজ রয়েছে সাত জেলে। উপজেলায় গবাদিপশু মারা গেছে চার হাজার ৯৪৪টি। ক্ষতি হয়েছে ৫৫৩টি নৌযানের। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় কলাপাড়ার ধুলাসার, লালুয়া, মহিপুর, লতাচাপলী ও চম্পাপুর ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের বাইরে সাগর ও নদীর তীরঘেঁষে প্রায় তিন হাজার পরিবার বসবাস করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে।

এদিকে দূর্যোগকালীন সময় মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন সেল্টারের সল্পতা রয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট সাইক্লোন সেল্টার নির্মিত হয়নি।

কলাপাড়া উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র সহকারী পরিচালক মো.আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সিডর পরবর্তী এ উপজেলায় ব্যাপক সাইক্লোন সেল্টার নির্মিত হয়েছে। তবে এ উপজেলার জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সল্পতা রয়েছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের নিকট চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সংকট দূর হবে।’

এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, উপজেলায় মাত্র ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় আছে। চলতি মৌসুমে টিকসই মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।